দৃষ্টি আকর্ষন
সব সময় সর্বশেষ সংবাদ জানতে দৈনিক দেশপ্রেম নিজে পড়ুন এবং অন্যকে পড়তে উৎসাহিত করুন ........... আপনার এলাকার যে কোন সংবাদ আমাদের ছবিসহ জানান-আমরা সেটি প্রকাশ করবো দৈনিক দেশপ্রেম পত্রিকায়, নিউজ পাঠান dailydeshprem@gmail.com এই ইমেইলে ............ আপনার পণ্যের খবর সকলের কাছে দ্রুত পৌছাতে দৈনিক দেশপ্রেম পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন ..........
শিরোনাম :
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের আলোচনা সভা, সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সনদে জরুরি সংশোধন হচ্ছে : ড. আলী রীয়াজ জুলাই সনদ স্বাক্ষর নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত মনে করছি : মঈন খান জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে তিন দাবিতে অবস্থান জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জাতীয় ঐক্যের নামে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে : জাতীয় শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নাহিদ কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিস্টদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না : সালাহউদ্দিন তারেক রহমানের ৩১ দফার আংশিক প্রতিফলন জুলাই সনদে হয়েছে : এমরান সালেহ প্রিন্স ঠাকুরগাঁওয়ে সার কীটনাশক সিন্ডিকেটের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে : ফারুক হাসান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত
দেড় দশকের আন্দোলন সংগ্রামের সময় ড. খলিলের নাম কেউ কখনো শোনেনি : রুহুল কবির রিজভী

দেড় দশকের আন্দোলন সংগ্রামের সময় ড. খলিলের নাম কেউ কখনো শোনেনি : রুহুল কবির রিজভী

ঢাকা, ২২ মে ২০২৫ইং (দৈনিক দেশপ্রেম রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দেড় দশকের শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

 

তিনি বলেছেন, দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে দেশে-বিদেশে কোথাও যার কোনো উপস্থিতি বা জেরালো বক্তব্য ছিল না, তার কাছে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত কি না, জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ কেউ সুকৌশলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনকে অনিরাপদ করে তুলতে চায় বলেও অভিযোগ করেছেন রিজভী।

 

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে গতকাল এক ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন সংগ্রামের সময় ড. খলিলের নাম কেউ কখনো শোনেনি। সুসময়ে হঠাৎ করেই তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসে উপদেষ্টা হয়েছেন।

 

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘দেড় দশকের শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে দেশে-বিদেশে কোথাও যার কোনো উপস্থিতি ছিল না বা কোনো জোরালো বক্তব্য ছিল না, তার কাছে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত কি না এসব নিয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।’

 

রিজভী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের গণমানুষের নেতা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রূপকার, ভয়ংকর মাফিয়া অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বর্বরতম জিঘাংসার শিকার, বাংলাদেশের আপামর জনগণের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে দেশের মানুষ বিস্মিত-হতবাক, উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন।’

 

ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত তারেক রহমানের প্রসঙ্গটি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলক বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। রিজভী বলেন, ‘ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়ার মতো ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, “কেবলমাত্র আমি আমেরিকায় থেকেছি বলে আমাকে যদি বলা হয় আপনি বিদেশি নাগরিক, তাহলে কালকে তারেক রহমান সাহেবকেও সে কথা বলতে হবে। আমাকে ঢিল নিক্ষেপ করলে সেই ঢিল কিন্তু অন্যের ওপর গিয়েও পড়তে পারে।”

 

রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ড. খলিলুর রহমানের এহেন বক্তব্য নিঃসন্দেহে আত্মগরিমার প্রদর্শন এবং দুরভিসন্ধিমূলক। তার কথাবার্তা-আচরণে বিগত কিছু দিনে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছেন। তিনি হয়তো দেশি-বিদেশি কারো স্বার্থ চরিতার্থ করার মিশনে যুক্ত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয় ছিলো ধ্বংসের শক্তি, জনগণ তা প্রতিহত করেছে। আমরা আর নতুন করে কোন প্রভুত্ববাদের অধীনতার নাগপাশে বন্দি হতে চাই না।’

 

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘ড. খলিলুর রহমানের অজানা থাকলেও দেশবাসীর অজানা নয় যে, তারেক রহমানকে কী কারণে কোন পরিস্থিতিতে লন্ডন যেতে হয়েছে। সেখানে থেকে তারেক রহমানকে বিশ্বের নিষ্ঠুরতম একটি জগদ্দল ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে।’

 

ওয়ান ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্মম হত্যা প্রচেষ্টা থেকে পঙ্গু অবস্থায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে যান। তখন থেকে তিনি তার পরিবারের সাথে সেখানে বসবাস করছেন। বাংলাদেশ ত্যাগের পর তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে বহু মিথ্যা সাজানো মামলায় জড়ানো হয়েছিল, যার মধ্যে তথাকথিত মানিলন্ডারিং মামলা (২০১১), জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা (২০১৭), ঘোষিত/অঘোষিত সম্পদ মামলা (২০২২) এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা (২০০৪) ছিল অন্যতম।

 

রিজভী বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই নেতার (তারেক) অনুপস্থিতিতে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী ক্যাংগারু আদালত তাঁকে সাজা দেয়। দুনিয়া কাঁপানো ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আদালত মিথ্যা মামলায় প্রদত্ত বেশিরভাগ সাজা বাতিল করেছে।’

 

তারেক রহমান তার জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখনো দেশে ফিরতে পারেননি বলে জানান রিজভী। তবে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন তারেক রহমান।

 

রিজভী বলেন, ‘সমর্থন অব্যাহত রাখার পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মনে হচ্ছে এই সমর্থনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ মনে হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া বাধাতে চায়।’

 

প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আপনি এমন একজন ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বানিয়েছেন দেশের জন্য যার কোন দৃশ্যমান অবদান নেই। তিনি তো বাংলাদেশের জন্য নন, বিদেশের জন্য কাজ করবেন। মানবিক করিডোর বা চ্যানেল নামে বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশকে অস্থির করার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না।’

 

‘ড. খলিলের অহেতুক প্রলাপে প্রতীয়মান হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ কেউ সুকৌশলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনকে অনিরাপদ করে তুলতে চায়।’ যোগ করেন রিজভী।

 

ড. খলিল তার নিজের পক্ষে ওঠা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পলাতক স্বৈরাচারের মতো তারেক রহমানের বিপক্ষে প্রোপাগান্ডার পথ বেছে নিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করছেন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, জনগণ এটা মেনে নেবে না।

 

রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দেড় দশক ড. খলিল কোথায় ছিলেন? কীভাবে ছিলেন? কোন দেশে ছিলেন? বিদেশে তার স্ট্যাটাস কী ছিল? ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে তার ভূমিকা কী ছিল ? অবশ্যই এসব প্রশ্নের জবাব জনগণকে জানাতে হবে।’

 

‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, রাষ্ট্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই। ড. খলিলকে অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশে-বিদেশে তার অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেশের জনগণের সামনে হাজির করতে হবে।’ দাবি করেন রিজভী।

 

রিজভী বলেন, ‘ইতোমধ্যে কথিত মানবিক করিডোর ইস্যু নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশেষ করে ড. খলিলের ভূমিকা নিয়ে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক করিডোর নিয়ে গত এক মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একেকজনের একেকরকম বক্তব্য মনে হয় এই সরকার পথ হারিয়ে ফেলেছে। এই সরকারের নিরপেক্ষতা এবং সরকার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।’

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© Copyright 2012 Daily Deshprem Design & Developed By Mahmud IT